ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় ভবিষ্যতে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে—এমন সতর্কতা দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি আবিষ্কৃত একটি ভূতাত্ত্বিক ফল্টে বিপুল শক্তি সঞ্চিত রয়েছে, যা একসময় মুক্তি পেলে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটাতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
২০২২ সালের ২১ নভেম্বর দুপুরের দিকে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায় ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সিয়াঞ্জুর শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় এক লাখ ঊনআশি হাজার। ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া তিন শতাধিক বিদ্যালয় ও ৬২ হাজারের বেশি বাড়ির অনেকগুলোই ভূমিকম্প সহনীয় করে নির্মিত ছিল না। দিনের মধ্যেই একশটির বেশি আফটারশক অনুভূত হয়, ফলে উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে পড়ে। আহতের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে যায় এবং প্রাণহানি ঘটে কয়েক শ মানুষের।
সিয়াঞ্জুর থেকে প্রায় পঁচাত্তর কিলোমিটার দূরে, জাভার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত জাকার্তার কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় উঁচু ভবনগুলো দুলে ওঠে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, অফিসকর্মীরা ভবন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তবে ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় এই শহরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জাকার্তার জনসংখ্যা প্রায় চার কোটি উনিশ লাখ। ভূমিকম্প এখানে নতুন কিছু নয়। ভূ-বিজ্ঞানী একবাল হুসেইন ব্যাখ্যা করেন, এই অঞ্চলের অধিকাংশ ভূমিকম্প সাগরে বা বড় দ্বীপগুলোর দক্ষিণ ও পশ্চিমের সাবডাকশন অঞ্চলে ঘটে, যা জনবহুল এলাকা থেকে তুলনামূলক দূরে। কিন্তু ভবিষ্যতে এই চিত্র বদলাতে পারে।
ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের গবেষক একবাল হুসেইন ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের একটি যৌথ প্রকল্পে কাজ করছেন। প্রকল্পটির লক্ষ্য বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ ইন্দোনেশিয়ার ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত ও মোকাবিলা করা।
এই ঝুঁকিগুলোর একটি হলো বারিবিস ফল্ট ব্যবস্থা। এটি পৃথিবীর ভূত্বকের পরস্পর সংযুক্ত ফাটলের একটি নেটওয়ার্ক, যা উত্তর জাভার বড় অংশ জুড়ে বিস্তৃত। পশ্চিম জাভার বান্দুং প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের ভূ-পদার্থবিদ ও অধ্যাপক এন্দ্রা গুনাওয়ান জানান, নব্বইয়ের দশক থেকেই ইন্দোনেশিয়ার ভূতত্ত্ববিদরা জানতেন যে বারিবিস ফল্টের একটি সক্রিয় অংশ জাকার্তার দক্ষিণ প্রান্ত অতিক্রম করেছে। তবে এটি ঠিক কোথায় অবস্থিত বা কতটা বিপজ্জনক—তা স্পষ্ট ছিল না। একবাল হুসেইনের ভাষায়, এখন বোঝা যাচ্ছে যে এটি সত্যিই বিপজ্জনক।
















Leave a Reply