Advertisement

কোনো চাপের কাছে মাথা নত নয় : থালাপতি বিজয়

নিজের রাজনৈতিক অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘জন নায়গান’ মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এখনো। তবুও তামিল তারকা থালাপতি বিজয় স্পষ্টতই রাজনীতিতে পুরো মনোযোগ ফিরিয়েছেন। আসন্ন তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে নিজের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর নেতৃত্বে আবারও সক্রিয় হয়েছেন তিনি।

রোববার তামিলনাড়ুর মামল্লপুরমে (মহাবালিপুরম) আয়োজিত টিভিকে-র এক বিশাল সমাবেশে অংশ নেন বিজয়। সেখানে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে তিনি মাথা নত করবেন না।

বিজয়ের অভিযোগ, অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (এআইএডিএমকে) সরাসরি এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (ডিএমকে) পরোক্ষভাবে বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। সমাবেশে তিনি বলেন, আমরা কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করি না। এই মুখ কি চাপের কাছে হার মানানোর মতো? সেটা কখনোই হবে না। আসন্ন রাজ্য নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক লড়াই আখ্যা দিয়ে বিজয় দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান, টিভিকে-কে বিজয়ের পথে নিয়ে যেতে নিজেদের ‘কমান্ডার’ হিসেবে প্রস্তুত করতে।ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-কে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্য শাসনকারী ‘অশুভ শক্তি’ এবং আগের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তি’র বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস ও মনোভাব কেবল টিভিকে-রই আছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, আমরা জনগণকে রক্ষা করতে এবং এই মাটিকে ক্ষতি করতে চায়- এমন যে কারও হাত থেকে বাঁচাতে এসেছি। আমরা কোনো কিছুর বিনিময়ে আমাদের রাজনীতি বিকিয়ে দেব না।

দুর্নীতির প্রশ্নে কড়া অবস্থান নিয়ে বিজয় বলেন, আগের বা বর্তমান শাসকদের মতো আমি দুর্নীতি করব না। এক পয়সাও স্পর্শ করব না। দুর্নীতির এক ফোঁটা দাগও লাগতে দেব না।

তিনি আরও বলেন, অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন- এটা কি সিনেমা? এটা কি ‘মুদলভান’ ছবির মতো, যেখানে একদিনে সব পরিষ্কার হয়ে যায়? বাস্তবে তা সম্ভব নয়। এটা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।সমাবেশে বিজয় টিভিকে-র নির্বাচনী প্রতীক ‘শিস’ উন্মোচন করেন। সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন কমিশন দলটিকে এই প্রতীক বরাদ্দ দেয়। অনুষ্ঠানে শিস বাজিয়ে তিনি প্রতীকীভাবে টিভিকে-র নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের সূচনা করেন।

উল্লেখ্য, রাজনীতিতে পূর্ণকালীনভাবে প্রবেশের আগে বিজয়ের শেষ সিনেমা হিসেবে আলোচিত ‘জন নায়গান’ গত ৯ জানুয়ারি পোঙ্গল উপলক্ষে মুক্তির কথা ছিল। তবে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (সিবিএফসি) থেকে ছাড়পত্র না পাওয়ায় ছবিটি বর্তমানে আদালতের জটিলতায় আটকে আছে। গত ২০ জানুয়ারি মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মনীন্দ্র মোহন শ্রিবাস্তবের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি ফের শুনানির জন্য ওঠে। তবে আদালত এখনো এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *